, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিতীয় দফায় শুল্ক আলোচনা শুরু, বেশিরভাগ বিষয়ে একমত দুই পক্ষ

  • আপলোড সময় : ১০-০৭-২০২৫ ০২:১৭:৩০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৭-২০২৫ ০২:৩১:০০ অপরাহ্ন
​যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিতীয় দফায় শুল্ক আলোচনা শুরু, বেশিরভাগ বিষয়ে একমত দুই পক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শুল্কসংক্রান্ত আলোচনার প্রথম দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার প্রথম দিন শেষে জানা গেছে, বেশিরভাগ ইস্যুতে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনার প্রথম দিন শেষ হয়েছে। আগামী দুই দিন— বুধবার ও বৃহস্পতিবার— আলোচনা চলবে। যুক্তি-তর্কে অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এখনই শুল্ক ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খালিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আলোচনার প্রথম দিন সকালে ঢাকা থেকে সরাসরি ওয়াশিংটনে পৌঁছে বৈঠকে অংশ নেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও মেধাস্বত্ববিষয়ক বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় অংশ নেয় ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) দপ্তরের প্রতিনিধিরাও। বৈঠকে একটি সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হিসেবে জানানো হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন আলোচনার আগে ওয়াশিংটন থেকে এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুধু শুল্ক নয়, সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের দিক নিয়েও আলোচনা চলছে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রথম দিনের আলোচনায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এবং শুক্রবার দিনব্যাপী আলোচনা চলবে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান লেখেন, “প্রথম দিনের আলোচনার পরিধি ছিল ব্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃষি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও মেধাস্বত্বসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে এবং বক্তব্যও উপস্থাপন করেছে।”

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ছাড়ার আগে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি চিঠি ও প্রস্তাবিত চুক্তির ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে সামরিক সরঞ্জাম, এলএনজি, গম, তুলা, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ওই চুক্তির একটি এনেক্সার ডকুমেন্টও যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তিনদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের (ইউএসটিআর) সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের আলোচনা চলবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না— এ আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি গত এপ্রিল থেকে এলএনজি, গম ও তুলা আমদানি বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভিয়েতনামের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একইসঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের ওপর প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্কহার বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী। আলোচনার ফলাফল কী হয়, তা জানার জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো  বাংলাদেশের সুযোগ!

​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো বাংলাদেশের সুযোগ!